হাঁসের মাংসে এলার্জি - লক্ষণ - কারণ ও প্রতিকার জানুন

রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয় জানতে ক্লিক করুনআমরা শুধু জানি হাঁসের মাংস খেতে অনেক সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে। যদি আপনিও না জেনে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য।
হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে

হাঁসের মাংস যদি এলার্জি থাকে তাহলে কিভাবে এর লক্ষণগুলো কিভাবে বুঝতে পারবেন সেই বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে বা ঔষধ খেতে হবে সে সম্পর্কেও জানানোর চেষ্টা করব।

সূচিপত্রঃ হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে

হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে

হাঁসের মাংস খেতে কে না পছন্দ করে। আমরা সবাই হাঁসের মাংস খেতে পছন্দ করি। কারণ হাঁসের মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।হাঁসের মাংসের যেমন একাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে তেমনি হাঁসের মাংস খেতেও অনেক সুস্বাদু যা একবার খেলে বারবার খেতে মন চায়।
হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে

বন্ধুদের সাথে মিলে কতদিন হাঁসের মাংস দিয়ে পিকনিক করে ভরপুর খেয়েছি। কিন্তু অনেক সময় দেখা গেছে কিছু বন্ধুদের হাঁসের মাংস খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের এলার্জির সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এর কারণ হলো হাঁসের মধ্যে থাকা প্রোটিন আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ইমিউনোগ্লোবিউলিন ই এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে হিস্টামিন ছড়ায়,

ফলে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়। তবে খুব কম মানুষকে দেখা যায় হাঁসের মাংসে এলার্জি আছে। আপনার যদি খাসির মাংস, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ডিম ইত্যাদি খেয়ে এলার্জি দেখা দেয় তাহলে বুঝবেন হাঁসের মাংস খেলে ১০০% এলার্জি দেখা দিবে। আর যদি কোন খাবারে বা মাংসে আপনার যদি এলার্জি না থাকে সেক্ষেত্রে হাঁসের মাংস খেলে আপনার এলার্জি দেখা দিবে না।

হাঁসের মাংস এলার্জির লক্ষণ গুলো

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কিংবা পিকনিকে বন্ধুদের সাথে মিলে ভর পেট হাঁসের মাংস খেয়ে থাকি। তৃপ্তি মতো হাঁসের মাংস খাওয়ার পর অনেক সময় দেখা যায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বমি বা ডায়রিয়া, হাঁচি কাশি, চুলকানি ও ফুসকুড়ির মত সমস্যায় পড়তে হয়।
এর মূল কারণ হলো আপনার হাঁসের মাংসে এলার্জি রয়েছে। ডা. আফলাতুন আকতার জাহান এর মতে হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি এই লক্ষণগুলো দেখতে পান তাহলে বুঝে নিবেন হাঁসের মাংসে আপনার অ্যালার্জি আছে।

কারা হাঁসের মাংস এড়িয়ে চলবেন

আপনার যদি এলার্জির সমস্যা থাকে তাহলে আপনাকে হাঁসের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আবার আপনার যদি ফ্যাটি লিভার বা ডায়াবেটিস , উচ্চ কোলেস্টরেল, হৃদরোগ এই রোগ গুলো থেকে থাকে তাহলে হাঁসের মাংস খাওয়া আপনার উচিত হবে না। তাই হাঁসের মাংস খাওয়া থেকে আপনাকে বিরত রাখতে হবে যদি সুস্থ থাকতে চান।

কতটুকু হাঁসের মাংস খাওয়া নিরাপদ

সুস্বাদু একটি মাংসের নাম হল হাঁসের মাংস। আমরা অনেকেই হাঁসের মাংস পেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি খাওয়ার জন্য। কিন্তু আপনি এই ভুলটি কখনোই করবেন না। কারণ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁসের মাংস পরিমান মত খাওয়া উচিত। ডা. আফলাতুন আকতার জাহান বলেন যে কোন মাংস ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত খাওয়া নিরাপদ।
তাই আপনি যদি সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চান তাহলে 60 থেকে 70 গ্রাম পরিমাণ দুই থেকে তিন টুকরা হাঁসের মাংস খেতে পারেন এতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না বরং আপনার শরীরে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করবে। আরেকটি কথা না বললেই নয় আমরা অনেকেই হাঁসের চামড়া সহ রান্না করি।

এই ভুলটি কখনোই করবেন না। কারণ হাঁসের চামড়ায় চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই আপনি চেষ্টা করবেন রান্নার সময় হাঁসের চামড়া ফেলে দেওয়ার। যদি চর্বির হাত থেকে বেঁচে থাকতে চান।

হাঁসের মাংসে এলার্জি হলে চিকিৎসা কি

হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে উপরে যে লক্ষণগুলো দেওয়া হয়েছে সেই লক্ষণ গুলো যদি দেখা যায় তাহলে প্রাথমিকভাবে কিছু চিকিৎসা নিজেই করতে পারেন। কিন্তু হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি আপনার এলার্জি গুরুতর হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন।

হাঁসের মাংস খাওয়া বন্ধ করুনঃ আপনি যদি বুঝতে পারেন যে হাঁসের মাংস খেলে এলার্জি হচ্ছে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে হাঁসের মাংস খাওয়া বন্ধ করুন। এমনকি ভবিষ্যতে হাঁসের মাংস এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।

ইমিউন থেরাপিঃ হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি এলার্জির লক্ষণ গুলো দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে ইমিউন থেরাপি নিতে পারেন।
অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করুনঃ অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ যেমন লোরাটাডিন বা সিট্রিজিন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এই ঔষধটি ফার্মেসি থেকে সহজেই পেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় কোন ধরনের ঔষধ সেবন করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

শ্বাসকষ্টের জন্য ইমার্জেন্সি চিকিৎসাঃ হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয় বা গলা ফুলে যায় তাহলে এটি অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামক গুরুতর এলার্জি প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই ধরনের এলার্জি দমন করার জন্য ইপিনেফ্রিন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যদি আপনার নিকটস্থ কোন হাসপাতাল থাকে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে চলে যান।

হাঁসের মাংসে এলার্জি নিয়ে কমন ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

1.হাঁসের মাংসে কি এলার্জি হতে পারে?

হাঁ, হাঁসের মাংসে থাকা প্রোটিন বা অন্যান্য উপাদানে কিছু মানুষের এলার্জি হতে পারে।

2.হাঁসের মাংসে এলার্জির লক্ষণ কী কী?

ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, বমি, পেটে ব্যথা, অথবা মুখ, ঠোঁট ও গলা ফুলে যাওয়া।

3.কেন হাঁসের মাংসে এলার্জি হয়?

হাঁসের মাংসে থাকা নির্দিষ্ট প্রোটিনের প্রতি ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে এলার্জি হতে পারে।

4.হাঁসের মাংসে এলার্জি হলে কত দ্রুত লক্ষণ দেখা যায়?

এলার্জি সাধারণত খাওয়ার পর কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয়।

5.হাঁসের মাংসে এলার্জি কীভাবে পরীক্ষা করা যায়?

অ্যালার্জি টেস্ট (স্কিন প্রিক টেস্ট বা ব্লাড টেস্ট) করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

6.হাঁসের মাংস এড়িয়ে গেলে কি এলার্জি ভালো হয়ে যায়?

হাঁ, এলার্জি এড়াতে হাঁসের মাংসসহ এলার্জি সৃষ্টিকারী খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

7.হাঁসের মাংসে এলার্জি কি শিশুদের মধ্যে বেশি হয়?

হাঁ, শিশুদের ইমিউন সিস্টেম উন্নত না হওয়ায় তাদের মধ্যে এলার্জির ঝুঁকি বেশি থাকে।

8.হাঁসের মাংসে এলার্জি থাকলে কী খাবেন?

বিকল্প হিসেবে মুরগি, মাছ, বা ভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিতে পারেন।

9.হাঁসের মাংস এলার্জির ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়?

প্রথমবার হাঁসের মাংস খাওয়ার সময় অল্প পরিমাণে খান এবং শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন।

10.এলার্জির জন্য চিকিৎসা কী?

অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ বা গুরুতর ক্ষেত্রে ইপিনেফ্রিন ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাঁসের মাংস এলার্জির লক্ষণ গুলো লেখকের মন্তব্য

আপনি যদি আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকেন তাহলে ইতিমধ্যে আপনি জানতে পেরেছেন যে হাঁসের মাংসে কি এলার্জি আছে। এছাড়াও জানতে পেরেছেন যে হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি এলার্জি দেখা দেয় তাহলে কি কি লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বলার চেষ্টা করেছি যে হাঁসের মাংস খাওয়ার পরে যদি এলার্জি দেখা দেয়

তাহলে প্রাথমিকভাবে কিভাবে চিকিৎসা করে নিজেকে সুস্থ করে তুলবেন। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে আজকের মত এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মারিয়া অনলাইন ব্লকের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url